Breaking News

২৬ দিন পর আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জনের দেহাবশেষ পেল পরিবার, এখনও শনাক্ত হয়নি ৯ দেহাংশ!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পর ২৬ দিন কেটে গিয়েছে। শনিবার ২৭তম দিনে নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে মৃতদের পরিবারের হাতে। দেহাংশ নিতে কাঁটাপুকুর মর্গে উপস্থিত হন আত্মীয়-পরিজনেরা। এখনও ন’টি দেহাংশ চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়নি।২৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে দু’টি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৭ জনের দেহাংশ। আগুনের তীব্রতায় অধিকাংশ দেহ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাড়ির লোকের DNA নমুনা চাওয়া হয়। সেই নমুনা পরীক্ষার পরে ১৮ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। দেহগুলি শনিবার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।এ দিন সকালেই ১৮ জনের বাড়ির লোকজন নরেন্দ্রপুর থানায় পৌঁছে যান। সেখানে কাজকর্ম মিটিয়ে যান কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখান থেকেই দেহাবশেষ তুলে দেওয়া হয়। দেহ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। বাড়ির লোকেরা বলছেন, ‘যে টুকু আছে, সেটাই নিয়ে যাই এ বার।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দেহাংশগুলির নমুনা ম্যাপিংয়ে মিলে গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একজন এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন আছেন।এদিন সকাল থেকে থমথমে মুখ করে থানার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। কেউ সন্তানকে হারিয়েছেন, কেউ স্বামীকে। কারও দাদা এসেছেন, কারও কাকা। শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানায় আসেন| কাঁটাপুকুর মর্গ থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দেহাংশ গুলি হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রায় একমাস হতে এল। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর শংসাপত্র মেলেনি। নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু ঘটনাটি খেয়াদহ দু’নম্বর পঞ্চায়েতের মধ্যেই ঘটেছে তাই মৃত্যুর শংসাপত্র দেবে খেয়াদহ ২ নম্বর পঞ্চায়েত। কিন্তু যাঁদের বাড়ি মেদিনীপুরে থেকে তাঁদের পক্ষে নরেন্দ্রপুরে আসাটা যথেষ্ট ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই যাতে তাঁদের মৃত্যুর শংসাপত্র গুলি নিজে নিজে ব্লক থেকে দেওয়া হয় সেই আবেদন জানিয়েছেন মৃতদের পরিবার। সেটি কীভাবে দেওয়া সম্ভব তাও নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজ ৯টি দেহাংশ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের পরিবারকে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, দেহাংশ শনাক্তের প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *