দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- কয়েক ঘণ্টা আগেই বাবার দাহকার্য সম্পন্ন হয়েছে। বাবাকে দাহ করার পর সাদা থান পরে ছেলে। ওই থান পরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল পরীক্ষার্থী ছেলে। বাবার মৃত্যুশোককে বুকে কার্যত পাথর চাপা দিয়ে পরীক্ষা দিল ছেলে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার আনন্দপুরে|মানসিক ভাবে বড় আঘাতের পরেও যে ভাবে ছাত্রটি পরীক্ষা দিতে গেলেন, তা দেখে কুর্নিশ জানালেন বিরহী নেতাজি বিদ্যাভবন কর্তৃপক্ষ। হরিণঘাটা পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপুরের বাসিন্দা স্বস্তিক। আনন্দপুর হাই স্কুলে বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়া এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক দিচ্ছেন। বুধবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন স্বস্তিকের বাবা সুদীপ দাস। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে প্রৌঢ়ের। বাবার পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে সাদা কাছা পরে শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে যান স্বস্তিক।পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বস্তিককে দেখে সহপাঠীদের অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে স্বস্তিক জানান, পরীক্ষা ভালই হয়েছে। তরুণের কথায়, ‘‘বাবা আর ফিরে আসবেন না, জানি। কিন্তু বাবা সর্বদা চাইতেন, আমি পরীক্ষায় ভাল ফল করি, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হই। বাবার ইচ্ছাপূরণ করতেই আমি পরীক্ষা দিচ্ছি।’’ স্বস্তিক জানিয়েছেন, বাকি পরীক্ষাগুলো ভাল করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় বাবা সুদীপ দাসের। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল ওই পরিবারের। গতকাল, বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তির দাহকার্য হয়। বাবার মৃত্যুতে দাহকার্য করে ছেলে স্বস্তিক। গুরুদশায় থানও পরেছে ওই ছাত্র।আজ, শুক্রবার থান পরেই পরীক্ষা দিতে গেল ওই পরীক্ষার্থী। অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছয় সে। তবে পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে কোনও বাধা আসেনি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal