দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বাংলা সাহিত্য জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, যাঁকে পাঠকসমাজ চেনে ‘শংকর’ নামে। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে সাহিত্য-সংস্কৃতির আকাশে যেন ইন্দ্রপতন ঘটল। তৈরি হল এমন এক শূন্যতা, যা কোনও দিন পূরণ হওয়ার নয়। তবু থেকে যাবে তাঁর অমর সৃষ্টি, পাঠকের হৃদয়ে।লেখকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিক অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন। সম্প্রতি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই অবস্থা সংকটজনক হয় তাঁর| গত ৪ ফেব্রুয়ারি বার্ধক্য জনিত সমস্যা এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বর্ষীয়ান সাহিত্যিক| আইসিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন শংকর| আজ, শুক্রবার দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়| প্রয়াণের পর শোকজ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| তিনি এক্স-এ লেখেন ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক শংকরের-এর সাহিত্যজীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। অল্প বয়সেই লেখা কত অজানারে তাঁকে পাঠকমহলে বিপুল পরিচিতি এনে দেয়। সেই বইয়ের সাফল্যই যেন তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যপথের ভিত্তি রচনা করে।শংকরের একাধিক উপন্যাস বড় পর্দাতেও সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত হয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এছাড়া চৌরঙ্গী উপন্যাস থেকেও তৈরি হয় জনপ্রিয় সিনেমা, যেখানে মুখ্য চরিত্র স্যাটা বোসের ভূমিকায় অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমার। এই প্রসঙ্গে শংকর একবার বলেছিলেন, “সত্যজিৎই আমাকে সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, ছড়িয়ে দিয়েছে।”বাস্তব জীবনঘনিষ্ঠ কাহিনি, সহজ অথচ গভীর ভাষা ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তি, এই সব মিলিয়েই শংকরের সাহিত্য হয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠকের প্রিয়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal