দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবের পথে বহু কাঙ্ক্ষিত গঙ্গাসাগর সেতু । মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর তৈরি হতে চলা এই সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সোমবার সাগরে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৭০০কোটি টাকার এই প্রকল্পের সূচনা করে তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই বিশাল খরচের যোগান দেওয়া হচ্ছে |এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে গঙ্গাসাগর যেতে আর নদীপথে ভাসতে হবে না পুণ্যার্থীদের। সোজাসুজি সড়কপথেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সাগর দ্বীপ তথা কপিল মুনির আশ্রমে।এদিন সাগরের মাটি থেকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ এই ব্রিজটির শিলান্যাস করে শুধু বাংলার মানুষের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য গর্বিত বোধ করছেন ।” মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতু তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে দেশের অন্যতম খ্যাতনামা নির্মাণ সংস্থা এলঅ্যান্ডটি (L&T)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হবে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চার লেনের সেতুটি । আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কাজের বরাত বা ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এদিন SIR নিয়েও মুখ খুলেছেন। সেখানে তিনি বলেন,”যে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকার ছিল ৭-৮ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করার। AI দিয়ে নাম কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদবি বদলে দিলে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপে চলছে।” গঙ্গাসাগর যাত্রার দুর্গমতা বোঝাতে একটা সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’ প্রবাদটি । এদিন সেই প্রবাদকে কার্যত বদলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন স্লোগান তোলেন, ‘সব সাগর একবার, গঙ্গাসাগর বারবার’। তিনি মনে করিয়ে দেন, আগে বকখালি যাওয়ার পথেও সেতু ছিল না, যা এখন তৈরি হয়েছে । মুড়িগঙ্গার ওপর এই সেতুটি সম্পন্ন হলে পুণ্যার্থী ও স্থানীয় মানুষকে আর জোয়ার-ভাটার খেয়াল রেখে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না । দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal