দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- কলকাতা হাইকোর্টে আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। শুক্রবার জোড়া মামলার শুনানি এজলাসে অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা এবং ভিড়ের কারণে মুলতবি হয়ে যায়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে শুনানি শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় ১৪ জানুয়ারি। এই আবহে দ্রুত ওই মামলার শুনানি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অফিসের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)|তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ‘চুক্তিবদ্ধ’ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থাটির সল্টলেকের অফিসে ইডির হানায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পরেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করে ভোটের রণকৌশল, প্রার্থী তালিকা চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা ইডির দাবি, কয়লা পাচার মামলায় এই অভিযান। গোটা ঘটনার জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। শাসকদল তৃণমূল এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দু’পক্ষই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।আজ শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুটি মামলারই একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই মামলার শুনানি শুরু হতেই এজলাসে বেনজির বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। যারা এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরাও এজলাসে ভিড় করে ঢুকে পড়েন। বারবার এজলাস খালি করার কথা বলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। শেষমেশ দুটি মামলায় মুলতুবি করে আগামী ১৪ জানুয়ারি শুনানি হবে বলে জানায় হাই কোর্ট,তাতে অখুশি ইডি।মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গতকালের অভিযানে পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জরুরি বেঞ্চ বসিয়ে শুনানির আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতির সচিবালয়ে ই মেল করে ইডি৷যদিও ইডি-র সেই আবেদনে সাড়া দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল| সেই সিদ্ধান্তের কথা ইডি-কে জানিয়েও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির সচিবালয়| কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, একক বেঞ্চ ইতিমধ্যেই মামলা মুলতুবি বা স্থগিত করার মতো নির্দেশ জারি করেছে| এই অবস্থায় নতুন জরুরি বেঞ্চ বসিয়ে শুনানির জন্য হস্তক্ষেপ করার জায়গা নেই বলেই জানানো হয়েছে |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal