Breaking News

‘যত দ্রুত গরিবরা টাকা পান, নিশ্চিত করুন’, ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত মামলায় মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- আটকে রাখা যাবে না ১০০ দিনের কাজের মজুরি, অবিলম্বে তা রাজ্যের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। শুক্রবার রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যের বকেয়া ১০০ দিনের টাকা কেন্দ্রকে মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, সেই টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের মন্তব্য, ”১০০ দিনের কাজের টাকা সরাসরি শ্রমিকদের হাতে যাক।” তিনি আরও বলেন, “যারা মনরেগায় কাজ করেন তাঁরা গরিব। তাই টাকার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।” রাজ্যে বন্ধ থাকা ১০০ দিনের প্রকল্প চালু করতে গতবছর জুন মাসে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনন্তকালের জন্য ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না, বলে মন্তব্য করেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। এই রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র। শীর্ষ আদালতে মামলাটি ওঠে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। শুনানি শেষে ১০০ দিনের টাকা দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু এই সংক্রান্ত আরও একাধিক মামলা রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্র যা অভিযোগই করুক না কেন সবার আগে টাকা দিতে হবে।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,এটা জনস্বার্থ মামলায়। সুতরাং জনগণের স্বার্থে রাজ্যের এই মামলায় আবেদন জানানোর অধিকার রয়েছে। সায়ন ব্যানার্জী বলেন,১০০ দিনের কাজ আমরা দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করেছি কিন্তু টাকা পায়নি এখনও। আদালতের নির্দেশ, রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে হলফনামা জমা দেবার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আইনজীবীর কথা শুনে বিচারপতি বলেন,“আমরা সবাই চাই টাকা পৌঁছে যাক শ্রমিকদের হাতে।” ১৭ ফ্রেরুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বকেয়া টাকা কেন্দ্রকে মেটাতে হবে। কিন্তু তারপরও এই মামলায় কিছু অমীমাংসিত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *