Breaking News

‘পেটানো কোনও ধর্ম নয়…’,শিলিগুড়িতে উচ্চতম মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করে বিজেপিকে তোপ মমতার!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে মঞ্চ করে একযোগে রাজনৈতিক, মানবিক ও সামাজিক বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে শুক্রবার সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার শিলান্যাসের সময় মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এটিই হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দির। দৈনিক এক লক্ষ দর্শনার্থী হাজির হতে পারবেন মন্দিরপ্রাঙ্গণে। তাঁরা মন্দিরের নাম রেখেছেন ‘মহাকাল মহাতীর্থ মন্দির।’মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করে মমতা জানান, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মেলবন্ধন ঘটছে বাংলার নানা জায়গায়। দিঘার জগন্নাথ ধাম, নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন এবং শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির— বিশ্বব্যাপী পর্যটক, ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষিত করবে। তাঁদের কাছে ক্রমশ দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে পশ্চিমবঙ্গের এই ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বর করব বলেছিলাম। করেই ছাড়ব।’’ তিনি জানান, মহাকাল মন্দিরে কমপ্লেক্সের মূল মন্দির ছাড়াও বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি তৈরি হবে। মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জের মূল মূর্তির উচ্চতা হবে ১০৮ ফুট। সেটি যে ভিতের উপর স্থাপিত হবে, সেটিও ১০৮ ফুট উচ্চতার। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরির জমিও পাওয়া গিয়েছে। জমি দেবে রাজ্য সরকার। কোনও বেসরকারি সংস্থা সেটি তৈরি করবে। মমতার কথায়, ‘‘বিজ়নেসের পবিত্র স্থান হবে এই জায়গা। শিলিগুড়ি আর শুধু বিশেষ ট্রানজ়িট পয়েন্ট নয়।’’শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরে কী কী থাকবে বিশদে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘মন্দিরের ১০৮ ফুট প্যাডেস্ট্রিয়াল ব্লকে দু’টি নন্দীগৃহ থাকবে। যা পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে অবস্থান করবে। একটি মিউজ়িয়াম এবং সংস্কৃতি হলও থাকবে। মন্দিরের সীমানা বরাবর ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির থাকবে। এবং ভারতবর্ষের ১২টি জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিমূর্তি থাকবে। সারা ভারত এখানে খুঁজে পাবেন।’’এছাড়াও মন্দিরে দুটো প্রদক্ষিণ পথ থাকবে। যেখানে একেবারে ১০ হাজার ভক্ত জড়ো হতে পারেন। শিবালয়ের রীতি অনুযায়ী, চার কোণে চার জন দেবতা থাকবেন। দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি এবং দক্ষিণ পূর্বে বিষ্ণুনারায়ণ। দু’দিকে দুটো সভামণ্ডপ থাকবে। সেখানেও ৬ হাজারের বেশি মানুষ একসঙ্গে বসতে পারবেন। মহাকালের কাহিনি ও মহিমা পাথরের শিল্পকর্ম ফেস্কো পেন্টিংয়ের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে। রুদ্রাক্ষ কুণ্ড এবং অমৃত কুণ্ড থাকবে। যেখান থেকে পবিত্র অভিষেকের জল ভক্তেরা সংগ্রহ করতে পারবেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *