প্রসেনজিৎ ধর :- দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজগঞ্জের বিডিও পদে এল পরিবর্তন। এই পদ থেকে সরানো হলো প্রশান্ত বর্মনকে এবং দায়িত্ব দেওয়া হলো রাজগঞ্জের যুগ্ম বিডিও-র দায়িত্বে থাকা সৌরভকান্তি মণ্ডলকে। বিডিও পদের দায়িত্ব পাওয়ার পরে সৌরভকান্তি মণ্ডল বলেন, ‘বেশ কিছু কাজ থমকে ছিল। সেগুলি শুরু করা আমার কাছে প্রথম কাজ হবে।’মঙ্গলবার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায় নতুন বিডিওকে সম্বর্ধনা জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজ এ বার গতি পাবে। বিধায়কের কথায়, সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক একাধিক প্রকল্প আটকে ছিল, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাত ধরে সেগুলি এগোবে বলে তিনি আশাবাদী।দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে হাত ছিল, এই অভিযোগ তুলে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিহতের পরিবার। তদন্তে নেমে খুনের ঘটনায় বিডিওর যোগ থাকার একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে আসে। বিডিও ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু রাজগঞ্জের ‘বিতর্কিত’ বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাগাল পেতে হিমশিম খেতে হয় কার্যত তদন্তকারীদের। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। পরে বিধানগর মহকুমা আদালতে হাজিরা দিলে আগাম জামিনও মেলে প্রশান্তর। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।সোমবার শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। এমনিই আইনি জটিলতার জেরে দীর্ঘদিন কাজের মধ্যে ছিলেন না প্রশান্ত বর্মন। ফলে রাজগঞ্জের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে তাঁকে সরিয়ে যুগ্ম বিডিওকেই আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal