প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- রাজ্যের আমলা ও পুলিশকর্তাদের বদলি নিয়ে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন— সোমবার হাইকোর্টের এমন অভিযোগ করল রাজ্য। যুক্তিসঙ্গত কারণেই অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে কমিশনের তরফেও। কোন কোন অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে কোন আমলদাদের নিয়ে আসা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা হাইকোর্টে জমা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে|
‘সমস্ত অফিসারকে সরিয়ে দিচ্ছে, বিপর্যয় হলে কে সামলাবে?’ হাই কোর্টে কমিশনকে বিঁধলেন কল্যাণ কলকাতা হাইকোর্ট।
ভোট ঘোষণার পরেই নজিরবিহীনভাবে বদল করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এমনকী একাধিক পুলিশ প্রশাসন পদেও রদবদল আনা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, একগুচ্ছ পুলিশ এবং আমলাকে অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক করায় বিপর্যয়ের আশঙ্কাও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। এবার সেই আশঙ্কার কথাই শোনা গেল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরানো হয়েছে ১৬ জন আইএএস অফিসারকেও। এছাড়াও ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরানো হয়েছে। অনেককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।” এই অবস্থায় আদালতে তাঁর আশঙ্কা, ”সমস্ত অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও বিপর্যয় হয়। তাহলে কে সামলাবে?”হাইকোর্টের এ দিন কল্যাণ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা রয়েছে বলে স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারে না। কিন্তু এখানে সেটাই হচ্ছে।’ অন্য দিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ‘বদলি করার ক্ষমতা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তার থাকে। এই ক্ষেত্রে কমিশন, রাজ্য সরকারের আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের অফিসার বা পঞ্চায়েত কর্মকর্তাদের নিয়োগকর্তা নন। আপাতত ইসিআই রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তারা ওই সব কর্তার নিয়োগকর্তা হয়ে গিয়েছে।’মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক অফিসার বদল করেছে কমিশন। স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরিয়ে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal