Breaking News

অনুপ্রবেশ থেকে দুর্নীতি!চার্জশিটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ তুললেনঅমিত শাহ?

প্রসেনজিৎ ধর :-ভোটমুখী বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ বিজেপির। ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসে অমিত শাহ নিজে চার্জশিট পেশ করেন। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও জনবিন্যাস পরিবর্তন-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি।

*অনুপ্রবেশ*
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা অনুপ্রবেশের নিরাপদ চারণভূমি। গরু পাচার থেকে জাল নোটের রমরমা চলে এই অনুপ্রবেশকারীদের হাত ধরে। বিজেপির অভিযোগ, তার পরেও তৃণমূল তোষণ করে চলেছে এই অনুপ্রবেশকারীদের। শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ বাংলার শাসকদলের।অমিত শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা চলছে। অসমে ক্ষমতার আসার পর অনুপ্রবেশকারী আর একটিও নেই। এই কারণে বাংলার ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার আসন্ন ভোটে তৃণমূলের অরাজকতার জবাব দেবে জনতা।”

*’দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির শীর্ষে তৃণমূল’*
বিজেপির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল একাধিক দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই পচন শিকড় থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।’ বিজেপির অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার কয়লা পাচার কেলেঙ্কারি, ১০,০০০ কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি, স্কুল সার্ভিস কমিশন দুর্নীতিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল, ১০০ দিনের কাজে জবকার্ড দুর্নীতি, লটারি কেলেঙ্কারি, মিডডে মিল কেলেঙ্কারি, ৪০ হাজার কোটি টাকার অধিক চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা দুর্নীতি, সীমান্তে গরু পাচার কেলেঙ্কারির মতো ঘটনায় যুক্ত তৃণমূলের লোকেরা।

*‘রাজনৈতিক অপশাসন’*
ডিএ থেকে সপ্তম বেতন কমিশন চালু না হওয়া, ভোটার তালিকা সংশোধনে বাধার মতো অভিযোগ রয়েছে চার্জশিটে। উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তৃণমূল সরকারের চূড়ান্ত উদাসীনতার জন্যই সরকারি কর্মচারীরা আজ আর্থিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’

*শিল্প নিয়ে খোঁচা*
শাহের খোঁচা, “তৃণমূলের দুর্নীতির জন্য বেকার বাংলার যুবক, যুবতীরা।” শিল্পের জন্য বাংলা যেন কবরস্থান, চার্জশিটে উল্লেখ শাহের।

*সিন্ডিকেটরাজ*
শাহ বলেন, “সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে সিন্ডিকেটরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের কুশাসনের ভ্রষ্টাচারের প্রয়োগশালা হয়ে গিয়েছে। জনতার হয়রানি করছে। এখানে অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। দুর্নীতিগ্রস্তরা রাজনীতিতে যুক্ত। সঙ্গে সিন্ডিকেটরাজ।”

*’আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি’*
চার্জশিটে বলা হয়েছে, আইনের শাসন পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চলছে ‘শাসকের আইন।’ রাজ্য পুলিশকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘তৃণমূলের দলদাস’ হিসেবে। এ রাজ্যে ‘সরকারি ব্যবস্থার পতন ও প্রশাসনিক অরাজকতা চলছে বলেও উল্লেখ রয়েছে সেই চার্জশিটে।’

*’গণতন্ত্রের উপর আঘাত’*
বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে ‘অপশাসনের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিধানসভার কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটি বা অন্য কোনও কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিরোধী দল বিজেপির কাউকে রাখা হয়নি। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো, বেআইনি ভোটারদের নাম বাদ দিতে SIR চালু হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার বাধা সৃষ্টি করেছেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছেন, তেমনই দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে।

*নারী নির্যাতন*
আরজি কর, কামদুনি, সন্দেশখালি, কসবা ল কলেজ, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ধর্ষণের মতো একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন শাহ। আর জি করের প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীকেও খোঁচা দেন তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *