দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- কলকাতা ও শহরতলির দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রথা শুরু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে পালাবদলের পরেও দুর্গাপুজো কমিটিগুলো কি সেই অনুদান পাবে? বিভিন্ন মহলে বার বার চলেছে এই আলোচনা। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো নিয়ে বা দুর্গাপুজোর ক্লাবে অনুদান নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। তবে, এই বিষয়ে খুব দ্রতই তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকেই অনুদান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে, কারা অনুদান পাবেন, আর কারা পাবেন না, সেই বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, মূলত ছোট ক্লাবগুলিতে আর্থিক অনুদান পাওয়া উচিত। আর যে ক্লাবগুলোর সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের অনুদান না নিলেও কোনও সমস্যা হবে না।তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘পুজো অনুদান তাঁরাই পাবেন, যাঁদের অর্থের দরকার। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।’ যে সমস্ত বড় বড় বারোয়ারি ক্লাবের পুজোর বাজেট কয়েক কোটি টাকা বা যাঁদের নিজস্ব বিপুল ফান্ড রয়েছে, তাঁরা এবার থেকে সরকারি অনুদানের তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন। শুধুমাত্র আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা বা ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলিই এই সাহায্য পাবে। তবে অনুদানের নিয়মে এই বড়সড় কাটছাঁট করা হলেও, চলতি বছরে বাংলায় সার্বিক পুজোর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রতি বছরই এই অনুদানের অঙ্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় রাজ্যের প্রায় ৪৪ হাজার ক্লাবকে এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল বিদায়ী তৃণমূল সরকার। এর ফলে রাজ্যের কোষাগার থেকে এক লপ্তে এক বিরাট বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। এবার ক্ষমতায় এসেই সেই নীতিতে বড়সড় বদল এনে রাজ্যের কোষাগারের খরচ কমানোর পাশাপাশি ছোট পুজো কমিটিগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal