Breaking News

বাঁশদ্রোণীর স্কুলে ছাত্রমৃত্যু থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যু, বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির দুই মৃত ছাত্রের মা!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন সন্তানহারা দুই মা। এক জন বাঁশদ্রোণীর স্কুলে মৃত সেই ছাত্রের মা। দ্বিতীয় জন নিজের ডাক্তারি পড়ুয়া-সন্তানকে হারিয়েছিলেন আরজি কর-কাণ্ডের মাস কয়েক আগে। নিজ নিজ সন্তানের মৃত্যুর বিচার চাইলেন তাঁরা। শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়েছিলেন আরও এক মা। অর্থাভাবে আটকে রয়েছে তাঁর সন্তানের চিকিৎসা। তার ব্যবস্থা করার আর্জি জানালেন তিনি। সূত্রের খবর, সবাইকেই যথাযথ পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।শনিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে পৌঁছন বাঁশদ্রোণীর মর্হিষবিদ্যা মন্দির স্কুলের মৃত তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষের মা। ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ দিন বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যান তিনি। ছেলের স্কুলের ব্যাগ ও ছবি নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি সন্তানহারা মা। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। জানা গিয়েছে, সব কিছু খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৩ মে অন্যান্যদিনের মতোই স্কুলে যায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষ। সে অসুস্থ বোধ করে। অভিযোগ, তারপরও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এমনকী বাড়িতে ফোন করেও জানানো হয়নি। নিয়ম মেনে স্কুল ছুটি হয়। শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যায় শিশু। গুরুতর আঘাত লাগে। নির্দিষ্ট সময়ে ছেলেকে আনতে যান বাবা। সেই সময় তাঁকে ফোন করে টিচার্স রুমে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেখানে গিয়ে দেখেন, আয়ুষ অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন তিনি। সেখানে একরত্তির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে। এরপরেই কোমায় চলে যায় সে। ১২দিন কোমায় থাকার পর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শিশুটির। চিকিৎসকদের দাবি, মাথায় রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুই হয়েছে তার। তাতেই বিক্ষোভে উত্তাল হয় এলাকা। শিশুটির মা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। কিন্তু এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সেই দাবিতে জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে বিচার চেয়ে হাজির হয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মৃত ছাত্রের মা-ও। ছেলের মৃত্যুর তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অমর্ত্য ঘোষাল নামে ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল আরজি কর-কাণ্ডের দু’মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে। ক্যাম্পাসের বাইরে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। ওই ঘটনায় সন্দীপ রায় বলে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সময়ে তিনি মত্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ছাত্রের বাবা বিবেকানন্দ ঘোষালের। তাঁদের আরও অভিযোগ, ছেলে ‘থ্রেট কালচারের শিকার’ হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে এই হুমকি সংস্কৃতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কয়েক জন ডাক্তারি-পড়ুয়া নিলম্বিত হন। ঘেরাও করা হয়েছিল অধ্যক্ষকেও। ‘দাদাগিরি’তে অভিযুক্ত চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে দিন কয়েক আগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য দফতর।ডাক্তারি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল পরিবার। কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম সেই সময় পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করেছিল সিআইডি। সেই তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবার। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু মন দিয়ে সব কথা শুনেছেন। তিনি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের কথা বলেছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *