প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশনে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য । সেই জায়গা বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না । এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, “ফুটপাত দখল করে কাউকে বসে থাকতে দেওয়া হবে না। জনগণের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।”ফুটপাত দখলমুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার সাধারণ মানুষের। সেই জায়গা জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। কলকাতার বড় বড় রাস্তা ও ফুটপাত কাউকে বিলিয়ে দেওয়ার অনুমতি আমাকে দেশের আইন বা জনগণ কেউ দেয়নি।”
নিজের সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যেখানে মানুষের স্বার্থ জড়িত, সেখানে সেই স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষের অসুবিধা মেনে নেওয়া যাবে না।”
তবে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি হকারদের জীবিকা নিয়েও ভাবনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারের অব্যবহৃত বা খালি জমি, অচল মার্কেট কিংবা উদ্বৃত্ত জায়গা চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হবে। তবে তার আগে জবরদখল করা জায়গা খালি করতে হবে।”
হকারদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের শ্রম মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত হকারদের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেবে সরকার। “আন্দোলন বা জোরজবরদস্তি না করে আপনারা সহযোগিতা করলে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ স্কিম আনা হবে। ভারত সরকারের শ্রম দফতরের যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা উপযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে,” বলেন শুভেন্দু।
নিউ মার্কেট, রাজাবাজার বা মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এমন পরিস্থিতি হতে পারে না যে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল পর্যন্ত যেতে পারবে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিকভাবেই দেখা হবে।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal