প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে একের পর এক জায়গায় তল্লাশি চালাল পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ। কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবন থেকে শুরু করে হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়ি—সব জায়গাতেই হানা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশেই ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার গভীর রাতে শালবনি থানার একটি বিশেষ দল সেখানে পৌঁছয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। তবে তল্লাশি চালিয়েও সুমিত রায়কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে অভিযান চালানোর পর পুলিশ ফিরে যায়।
এরপর তদন্তকারীরা পৌঁছন হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিত রায়ের শ্বশুরবাড়িতে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনের সময় ওই বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিনে সুমিত সেখানে আসেননি। পুলিশি অভিযানে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুমিতের শাশুড়ির অভিযোগ, তাঁদের পরিবারকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, শালবনি থানায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালবনি কেন্দ্র থেকে দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকিট না মেলায় এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই মামলার পাশাপাশি ভোট প্রচারের সময় কুর্মি সমাজকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং জমি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ নিয়েও সুমিত রায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, তাঁর কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে। সেই কারণেই তাঁর সম্ভাব্য অবস্থানগুলিতে একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সুমিত রায়ের সন্ধান না মেলায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পুলিশি তৎপরতার খবর পেয়ে তিনি আগেই স্থান পরিবর্তন করে থাকতে পারেন। ফলে তাঁকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal