প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এবার সেই ঘটনার জেরে পুলিশ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে, পর্ণশ্রী এলাকায়। অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায় তৃণমূলের কর্মীরা। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ দাবি করেন, তাঁদের দলের পোস্টার, পতাকা এবং হোর্ডিং ছিঁড়ে ফেলা হয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি পর্ণশ্রী থানায় ধর্নায় বসেন।বিজেপির হোর্ডিং, ব্যানার, পোস্টার ছেঁড়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি কার্যালয়ের সামনে তৃণমূল কর্মীদের পোস্টার সাঁটাতে দেওয়া হয়নি বলেই ভাঙচুর চালানো হয়েছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার পর্ণশ্রী থানার সামনে ধরনাও দেন ইন্দ্রনীল। অন্যদিকে থানার বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।অন্যদিকে, থানার বাইরে তৃণমূল সমর্থকদের স্লোগান দিতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে দাবি করেন, এই ঘটনায় তৃণমূলের কোনও ভূমিকা নেই; বরং বিজেপিই অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিজেপি নেতা মনোজ হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে রত্না চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্তের পর কাজল রায়, তাপস আইচ, পূরণ গুরুং, মন্টি সিংহ, দেবাশিস নাগ এবং আকাশ থাপাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ধৃতরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। এদিকে রত্না চট্টোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, কমিশন যদি বিজেপির প্রভাবেই কাজ করে, তবে তা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal