দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় দলীয় প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় কারাবাস এবং মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পর, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে বালুকেই ফের বাজি ধরেছে শাসকদল। আর এ দিন সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা আস্থার কথা জনসমক্ষে বললেন নেত্রী নিজেই। হাবড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে পাশে বসিয়ে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, “বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে আমি শুনেছি। জেনে রাখুন. আমার সরকারে বালু যত ভাল কাজ করেছেন, কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসা করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পাইনি। কেন গ্রেফতার করেছিল, কারণ পচা সিপিএম পার্টি দেড় কোটির নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়েছিল। তাঁদের রেশন ফলস নামে নিজেরা নিত। পার্টি ফান্ডের টাকা নিত। এই দেড় কোটি ফলস রেশন কার্ড বাদ দিয়েছিল বালু। এই চুরিটা ধরেছিল, তাই ওরা বিজেপিকে দিয়ে বালুর বিরুদ্ধে এটা করিয়েছে।”জ্যোতিপ্রিয়র প্রশাসনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা এ দিন সাফ জানান, তাঁর সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই। নেত্রীর কথায়, “জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।” ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু থেকে শুরু করে পাচার রোখা— খাদ্য দফতরের ভোলবদল যে বালুর হাত ধরেই সম্ভব হয়েছে, তা বারবার মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সাফল্যকে ‘হিংসে’ করেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে গ্রেফতার করেছে, যার নেপথ্যে কোনও প্রমাণ নেই।
রেশন দুর্নীতির অভিযোগকে খণ্ডন করে মমতা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বাম জমানার দিকে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম আমলের প্রায় দেড় লক্ষ ‘ফল্স’ রেশন কার্ডের কারচুপি ধরে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন নেত্রী। এ দিন সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিল, এই ‘অপমান’ ও ‘কুৎসার’ বদলা ইভিএম-এ নেওয়া হবে কি না।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal