প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-এক যুগ পর জেলমুক্তি ‘সারদা সম্রাট’ সুদীপ্ত সেনের। বারাসতে ২টি মামলায় আটকে ছিলেন জেলে। এই দুই মামলাতেই জামিন মঞ্জুর বিচারপতি রাজর্ষী ভরদ্বাজ ডিভিশন বেঞ্চের। গত ১২ বছর ১১ মাস ধরে হেফাজতে রয়েছেন সুদীপ্ত সেন। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে উত্তর ভারত থেকে গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন এবং সঙ্গে দেবযানী মুখোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা ছিল ৭৬ টি। এজেন্সির সব মামলায় আগেই জামিন পান সুদীপ সেন। আপাতত প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন সুদীপ্ত সেন।মঙ্গলবারই জামিন মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ বুধবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়। হাই কোর্টের এহেন নির্দেশে জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে সুদীপ্ত সেনের আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সম্ভবত জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন সুদীপ্ত সেন।
সারদার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাহাড়প্রমাণ মামলার জালে গত এক দশক ধরে জড়িয়ে ছিলেন সুদীপ্ত সেন। তাঁর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারদার বিরুদ্ধে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে মামলাগুলি হাতে নিয়েছিল, তাতে অনেক আগেই জামিন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলা। একের পর এক মামলায় জামিন মিললেও শেষ পর্যন্ত বারাসাত থানার দুটি মামলায় আটকে ছিল তাঁর মুক্তি। সেই দুটি মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করল আদালত।মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশ এবং সিবিআই – উভয় পক্ষকেই কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও কেন এক দশকে বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল শুরু করা গেল না? আদালত স্পষ্ট জানায়, ট্রায়াল শেষ না করে এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাউকে জেলবন্দি করে রাখা যায় না। বিচারপতির মতে, অভিযুক্ত জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সুবিধাই হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal