দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে উঠতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। নির্বাচনের মুখে বিভিন্ন দলে যোগদানের হিড়িকের মধ্যেই এবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী|পদ্মশিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বিকাশনারায়ণ চৌধুরীও। শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন দু’জনে। শুক্রবার সল্টলেকে দলের কার্যালয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন মাফিন। সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, মাফিন নিজেই বিজেপির হয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। রাজ্যে ‘পরিবর্তন’-এর পক্ষে প্রচার করতে চান বলেই এই সিদ্ধান্ত তাঁর। শুভেন্দু জানান, টলিপাড়ার পরিচিত মুখ হিসেবে মাফিনের জনপ্রিয়তা ঘরে ঘরে পৌঁছেছে, যা নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বরানগরের বাসিন্দা এই অভিনেত্রী স্থানীয় স্তরেও দলের হয়ে সক্রিয় থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।শুভেন্দু বলেন বিকাশ নারায়ণ চৌধুরী “তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় বাম অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই লড়েছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ আগস্ট মঙ্গলকোটে সিপিএমের সঙ্গে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন। কয়েকমাস জেলে ছিলেন। জেলাপরিষদে একাধিকবার জিতেছেন। নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। কয়েকদিন আগে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও কথা বলেন। মঙ্গলকোট-সহ নানা জায়গায় মিথ্যা মামলায় তাঁকে জেলে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সময় দলের কেউ পাশে দাঁড়াননি। সে ‘ক্ষোভে’ বিকাশনারায়ণ চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।” অন্যদিকে অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী টেলিপাড়ার চেনা মুখ। কমপক্ষে ২২টি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। ভোটমুখী বাংলায় বিজেপির প্রচার কর্মসূচিতে যোগ দেবেন দু’জনে।
রাজনীতিতে তাঁর এই আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা রাজনৈতিক ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। ভোটের আগে এই ধরনের যোগদান নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal