দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-সাধারণ মানুষকে বারবার লাইনে দাঁড় করানো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার ভোটে চরম আঘাত হানার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়| রবিবার সপ্তগ্রামের জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাফ জানান, আগামী ২৯ তারিখ হবে বিজেপির ‘ভয়ের রাজনীতির’ শেষ দিন। এদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে অভিষেক সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে উস্কে দেন। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষকে কেবল লাইনেই দাঁড় করিয়েছে। কখনও এনআরসি-র নামে লাইন, কখনও নোটবন্দির জন্য লাইন, আবার কখনও রান্নার গ্যাসের জন্য লাইন। মানুষকে এই হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে হবে।”বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের খতিয়ান তুলে ধরে জানান যে ইতিমধ্যে ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫৬টি রাস্তা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কেশপুর ও আনন্দপুর হাসপাতালের আধুনিকীকরণে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং আগামী দিনে কেশপুরে নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরির পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার গ্যারান্টি দেন তিনি। সিপিএম আমলের কঙ্কাল কাণ্ড এবং হার্মাদ শাসনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন যে আগের সিপিএম নেতারাই এখন জামা বদলে বিজেপি হয়েছে। তাঁর মতে মদ একই আছে কিন্তু শুধু বোতলটা বদলেছে। কোলাগ্রাম এলাকার বিজেপি নেতাদের নাম করে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে ৪ মে-র পর পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং কেশবপুর হবে বিজেপির শেষপুর। মোদী সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে রান্নার গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে দিল্লি, তাই এবার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েই দিল্লিকে বেলাইন করে দেবে।লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু এবং যুবসাথী প্রকল্পের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। বিজেপি ক্ষমতায় আসলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও হস্তক্ষেপ করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিরোধীদের বুথে বসার লোক নেই দাবি করে তিনি রসিকতার সুরে বলেন যে বিজেপি টাকা দিতে আসলে যেন তা নিয়ে নেওয়া হয় কারণ ওটা মানুষেরই করের টাকা, তবে ভোটটা যেন জোড়া ফুলেই পড়ে। ৪ মে-র পর তিনি আবার কেশপুরে এসে মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal