Breaking News

রাজ্যের অবস্থা ‘খারাপ’, তরুণ প্রজন্মকে ‘পরিবর্তনে’ শামিল হওয়ার ডাক রাজ্যপাল রবির!পাল্টা ‘লাটসাহেব’ কটাক্ষ মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতা :- লোকভবনের নববর্ষ অনুষ্ঠানে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলায় নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি। শুভেচ্ছাবার্তায় রাজ্যপালের দাবি, ‘গত কয়েক দশকে বাংলার পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এক সময় বাংলা দেশে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সর্বোচ্চ স্থানে ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য কত কয়েক দশকে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।’এই মন্তব্যের পর পরই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না-করে নিশানা করছেন তাঁকে। লোকভবনে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জানান, পশ্চিমবঙ্গ চিরকালই সাহিত্য, শিল্পচর্চা, সংস্কৃতি এবং বৌদ্ধিক দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। শুধু তা-ই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ভাবেও যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল এবং দেশের অন্যতম সেরা রাজ্যগুলির মধ্যে একটি ছিল। কিন্তু এখন আর সেই গরিমা নেই বলেই মনে করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার ডাক দেন রাজ্যপাল রবি। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইতিবাচক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। পরিবর্তনের অংশ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। উন্নততর হওয়ার, গৌরব পুনরুদ্ধার করার এই পরিবর্তন আকাশ থেকে এসে পড়বে না। এটা আমাদেরই করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে করতে হবে। আসুন, শপথ করুন। যখন দেশ এমন অভূতপূর্ব গতিতে এগিয়ে চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে থাকতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গকেও এর সঙ্গী হতে হবে। হয়তো নেতৃত্বও দিতে হবে।”
রাজ্যপাল আরও বলেন, “১৯৮০-র দশকের আগে গোটা দেশে মাত্র চারটি রাজ্যের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বেশি ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আজ ১৫টি রাজ্যের লোকের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে ঢের বেশি। জাতীয় পুঁজিতে আমাদের ভাগ ১০.৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আজ স্কুল এবং কলেজে নাম নথিভুক্তকরণের যে অনুপাত রয়েছে রাজ্যে, তা জাতীয় অনুপাতের চেয়ে অনেক কম।” তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি নথিভুক্ত এবং কার্যকর ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্প রয়েছে। তার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাটা প্রায় তিন লক্ষ। রাজ্যের পরিস্থিতির কথা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “কোথা থেকে কোথায় নেমে এসেছি আমরা। যে রাজ্য গোটা দেশকে প্রগতিতে পথ দেখাত, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আজ পরিস্থিতি খুব খারাপ।” একই সঙ্গে রাজ্যপাল আরও বলেন, “এই মাটি মা দুর্গার মাটি। পশ্চিমবঙ্গ যে নিজের গৌরব ফিরে পাবে, তা নিয়ে আমার মনে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। ভারতের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গেরও একটি অগ্রণী ভূমিকা থাকবে।”রাজ্যপাল রবির এই মন্তব্যের পর উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সভা থেকে তোপ দাগেন মমতাও। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, আমি নাম নেব না, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। আমাকে গালি দিয়েছেন। আগে তো অশান্তি হত না। এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতি দিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে রয়েছে।’’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *