প্রসেনজিৎ ধর, হুগলি:-ভোট যত দরজায় কড়া নাড়ছে, ততই যেন প্রকাশ্যে চলে আসছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরের টানাপোড়েন। সেই অস্বস্তিরই এক স্পষ্ট ছবি ধরা পড়ল চুঁচুড়ায়, খোদ কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানির উপস্থিতিতে।
মঙ্গলবার চুঁচুড়ার তিন নম্বর গেট এলাকায় বিজেপি জেলা অফিসের সামনে থেকে ‘নববর্ষের শঙ্খনাদ’ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে কর্মসূচি শুরু হয়। কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়ায় মেজাজ হারান স্মৃতি। শুধু তাই নয়, তাঁকে স্বাগত জানাতে জেলা কার্যালয়ে হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়কেও দেখা যায়নি। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে কেন্দ্রীয় নেত্রীর মনে।
এরপরেই মাঝপথে মিছিল থেকে ফিরে যান স্মৃতি। শোভাযাত্রা শুরু হলেও তাতে শেষ পর্যন্ত ছিলেন না তিনি। কড়া রোদ আর অব্যবস্থায় বিরক্ত স্মৃতি ইরানি মাঝপথেই মিছিল ছেড়ে চলে যান। অথচ কথা ছিল, চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ের সভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন এবং বিজেপির বিশেষ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সূচনা করবেন। কিন্তু নেত্রী চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী সুবীর নাগকেই সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করতে হয়।
বিজেপির প্রার্থী এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নেমে বলেন, “স্মৃতি ইরানির অন্য জরুরি কর্মসূচি ছিল, তাই তিনি ফিরে গিয়েছেন।” তবে নেত্রীকে সামনে থেকে দেখতে না পেয়ে যে কর্মীরা হতাশ, সে কথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনিও।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সংগঠনের ভেতরের অসামঞ্জস্য ও গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত—যা ভোটের মুখে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতেই পারে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal