Breaking News

‘ইভিএম লুটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে!’ মুরারই থেকে গণনা নিয়ে কর্মীদের বড় হুঁশিয়ারি মমতার,লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার মমতার

প্রসেনজিৎ ধর :- আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর কর্মসূচি ছিল বীরভূমের মুরারইতে। মমতা এদিন বলেন, ‘‘তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার। আমাদের কাছে খবর আসছে। গণনার মেশিনে যারা ভোট গুনতে যাবেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে রাখবেন।’’
মুরারইয়ের জনসভা থেকে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল মমতার গলায়। তৃণমূলের জয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।” তবে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলেও বিরোধীদের ‘ছক’ নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ।ইভিএম ও গণনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করে মমতা এদিন সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নাকি ইভিএম লুট করার বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেত্রীর কথায়, “আমাদের কাছে খবর আসছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার।” গণনার দিনেও বড়সড় কারচুপির আশঙ্কা করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “কেউ ১০০ ভোট পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে মাত্র পাঁচ। এটা মাথায় রাখবেন।”গণনা কেন্দ্রে যাঁরা দলের হয়ে নজরদারিতে থাকবেন, তাঁদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কর্মীদের ‘যুদ্ধ’ জয়ের ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, গণনার মেশিনে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা যেন প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্ভুলভাবে কম্পিউটারে ভোট তোলা হচ্ছে, ততক্ষণ কেউ যেন হাল না ছাড়েন। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুরারইতে এদিন বলেন, ‘‘লু খুব বেশি। আমার ৫০ মিনিট লাগার কথা। দু’ঘণ্টা লেগে গেল আসতে। ফিরেও অনেক কর্মসূচি আছে। এত রোদে সকলে অপেক্ষা করে আছেন। বেশি ক্ষণ বলতেও পারব না। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। লোকসভায় আমরা বিজেপিকে হারিয়েছি। ২০২৬ সালেই বাংলায় হারাব ওদের। তার পর দিল্লি থেকে তাড়াব। বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেউ কেউ নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম, দলকে বিক্রি করা যায় না। নির্দলের কোনও জাত নেই, দল নেই। সম্প্রদায়ের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাঁদের ক্ষমা করবেন না। শান্তির জন্য লড়ুন, ভাষা-জাতিকে রক্ষা করুন, ভোটাধিকারের জন্য লড়ুন। তৃণমূল সরকার থাকলে আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। এ বারের ভোটটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারাজীবন পাবেন। যুবসাথী যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এখনও যাঁরা পাকা বাড়ি করে উঠতে পারেননি, করে দেব। পানীয় জল সর্বত্র পৌঁছে দেব।অনেককে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে। লিস্ট আমি পেয়ে গিয়েছি। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়ব। শুধু তৃণমূলকে টার্গেট করেছে।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *