Breaking News

মারণরোগের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই, তবুও স্বপ্ন ছাড়েনি অদ্রিজা! উচ্চ মাধ্যমিকে যুগ্ম দশম হয়ে নজির কৃতী ছাত্রীর

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই জিতে নেওয়ার পর এবার মেধার ময়দানেও নজির গড়লেন অদ্রিজা গণ। মারণরোগ ক্যানসারের বিরুদ্ধে টানা চার বছরের লড়াই, ৮২টি কেমোথেরাপির ধকল— সব বাধা পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকায় জায়গা করে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা এই কৃতী ছাত্রী। ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে যুগ্ম দশম হয়েছেন রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের ছাত্রী অদ্রিজা।
অদ্রিজার জীবনযুদ্ধের শুরু ২০১৮ সালে। তখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। আচমকাই ধরা পড়ে টি-সেল লিম্ফোমা ক্যানসার। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা পর্ব। প্রথমে মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতালে, পরে কলকাতার টাটা ক্যানসার হাসপাতালে চলে চিকিৎসা। প্রায় আড়াই বছর ধরে ৮২টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। ২০২১ সালের জুন মাসে অফ ট্রিটমেন্ট হলেও এখনও নিয়মিত ফলো-আপ ও বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয়। বছরে একবার কলকাতা ও একবার মুম্বইয়ের টাটা হাসপাতালে যেতে হয় অদ্রিজাকে।
অসুস্থতার মাঝেও পড়াশোনা থেকে কখনও দূরে সরে যাননি তিনি। মাধ্যমিকেও পেয়েছিলেন ৯৪ শতাংশ নম্বর। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগে পড়েও রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান অর্জন করে সকলকে চমকে দিয়েছেন অদ্রিজা। তাঁর প্রাপ্ত নম্বরও নজরকাড়া— ইংরেজিতে ৯৭, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ৯৭, অর্থনীতিতে ৯৮, ভূগোলে ৯৯ এবং সাইকোলজিতে ৯৬।
অদ্রিজার বাবা জয়মঙ্গল গণ জানান, মেয়েকে পড়াশোনা করতে বলার প্রয়োজন পড়ত না। বরং বিশ্রাম নেওয়ার জন্যই বারবার বলতে হতো। তাঁর কথায়, “অদ্রিজার ইচ্ছাশক্তিই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি।” মা জ্যোতি গণ, যিনি বেলঘরিয়া বয়েজ স্কুলের শিক্ষিকা, মেয়ের চিকিৎসার সময় একাই মুম্বইয়ে থেকে সমস্ত দায়িত্ব সামলেছেন। পরিবারের উপর কঠিন সঙ্কট নেমে এলেও মেয়ের মানসিক জোরই তাঁদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
অদ্রিজার পাশে ছিল তাঁর স্কুলও। স্কুলের শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্রী সে। জীবনের কঠিন সময়েও পড়াশোনার প্রতি তার একাগ্রতা কখনও কমেনি।ভবিষ্যতে সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে সাইকোলজিস্ট হতে চায় অদ্রিজা। বেথুন কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর। নিজের সাফল্যের পর অদ্রিজার বার্তা, “জীবনে কঠিন লড়াইয়ে সাময়িকভাবে ভেঙে পড়লেও মনে রাখতে হবে, ঘুরে দাঁড়ানোর সময় ঠিক আসে। তাই মনের জোর কখনও হারানো যাবে না।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *