Breaking News

আবাসের বাড়ির প্রতিশ্রুতি, বিনিময়ে মোটা টাকা! কাটমানি অভিযোগে বড়ঞায় তৃণমূলের চার নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ

প্রসেনজিৎ ধর :-বাংলা আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগে মুর্শিদাবাদে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই প্রাক্তন সদস্য। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।শুক্রবার মধ্যরাতে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার পুলিশ শ্রীহট্ট গ্রামে হানা দেয়। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে কান্দি মহকুমা আদালতে হাজির করায় পুলিশ।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বড়ঞা ব্লকের সাবলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীহট্ট গ্রামের বর্তমান তৃণমূল সদস্য সকেরা বিবির স্বামী সুফল রহমান, পঞ্চায়েতের দুই প্রাক্তন সদস্য প্রশান্ত কুমার পাল, উৎপল বাগদি এবং মানিক বায়েন।
শ্রীহট্ট গ্রামের বাসিন্দা অঙ্গরী দত্ত নামে এক উপভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, অঙ্গরীর মতোই বাংলা আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই এলাকা থেকে কয়েক জনের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা তুলেছেন অভিযুক্তেরা।স্থানীয় সূত্রে খবর, উপভোক্তাদের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই অর্থ আদায় করা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।ধৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রশান্ত কুমার পাল আদালতে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা আবাস প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ নেওয়া হয়েছিল। এই মন্তব্যের পর ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া কতদিন ধরে চলছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। সেই কারণে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা চক্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে আরও ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করছেন, তাঁদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *