প্রসেনজিৎ ধর:- বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বৈঠক। রবিবার রাতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আজ অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের আগে এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, সংসদীয় রণকৌশল, আসন সমঝোতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিরোধী শিবিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
৮ই জুন দিল্লিতে বসছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দেশের ২৩টি রাজনৈতিক দল এই বৈঠকে অংশ নিতে চলেছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করা, বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।তবে বিরোধী শিবিরে ঐক্যের বার্তা সামনে এলেও জোটের অন্দরের মতপার্থক্য পুরোপুরি মেটেনি। জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক ডিএমকে এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি কেরল রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, কেরলের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার বিজেপির সঙ্গে বামেদের গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলেছে, যা জোটের ভিত্তিকেই দুর্বল করছে। এই বিষয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে বলেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।অন্যদিকে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের একাংশের বিরুদ্ধে জনরোষ, গ্রেফতারি এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আবহে সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা এবং বিজেপি-বিরোধী ভোটকে একজোট করার ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়া’ জোটই এখন তৃণমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ।
খাতায়-কলমে সংসদে এখনও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে তৃণমূল। আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেই অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একক শক্তিতে সেই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোই এখন তৃণমূলের প্রধান কৌশল হতে পারে। সেই কারণেই আজকের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার পুরনো তত্ত্ব নতুন করে উত্থাপন করতে পারে তৃণমূল, এমনই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেজরিওয়াল-মমতার বৈঠক এবং তার পরদিন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহাবৈঠক— এই দুই ঘটনাই আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আজকের বৈঠকেই জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, শরিক দলগুলির ভূমিকা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের রূপরেখা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal