প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পাহাড়ের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানকে সামনে রেখে নতুন করে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই আবহেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জিটিএ-র ভবিষ্যৎ, গোর্খাল্যান্ড ইস্যু, চা-বাগানের সমস্যা, শিক্ষক নিয়োগ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিমল গুরুং জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র জিটিএ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় এবং ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। গুরুংয়ের দাবি, ভারত সরকারের সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড-সহ পাহাড়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হবে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সহযোগিতার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান সম্ভব।
শুধু রাজনৈতিক সমাধানই নয়, পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একাধিক বিষয়ও বৈঠকে উঠে এসেছে বলে জানান মোর্চা সুপ্রিমো। চা-বাগানের শ্রমিকদের সমস্যা, শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগ, পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জিটিএ-র কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও দাবি করেন গুরুং।
এদিন বৈঠকে আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দার্জিলিংয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান বিমল গুরুং। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীও সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে পাহাড় সফরে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন পর পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে অন্যতম বড় ভূমিকা ছিল বিমল গুরুংয়ের। তাঁর সক্রিয় প্রচার, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থনের জোরে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং—পাহাড়ের তিনটি কেন্দ্রেই বিজেপি উল্লেখযোগ্য জয় পায়। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব থাকা পাহাড়ে বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করে তুলতে গুরুংয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বুধবারের এই বৈঠকের পর পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা মিলেছে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal