Breaking News

বাংলার মর্যাদা রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি দফতরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্ত দফতরে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। সোমবার বিধানসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের সব দফতরের দাপ্তরিক নথি, সরকারি চিঠিপত্র, বিজ্ঞপ্তি, নির্দেশিকা এবং অফিস অর্ডার বাংলাতেই প্রকাশ ও পরিচালনা করতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ভাষাও ব্যবহার করা হবে। রাজ্যের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক সমস্ত কাজ বাংলাতেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষার প্রসার ও সরকারি স্তরে তার ব্যবহার আরও বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।উল্লেখ্য, রবিবার কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে দেশের প্রথম ভাষাভিত্তিক জাদুঘর ‘শব্দালোকে’র উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভাষার শক্তি, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তার গুরুত্ব এবং সমাজ গঠনে মাতৃভাষার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতির ভিত্তি। তাঁর বক্তব্যেই সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ উঠে আসে।সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার বিধানসভায় বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের সর্বস্তরে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং বোধগম্য করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিধানসভার কার্যক্রম বাংলায় পরিচালনার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীও সেই উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তাঁর কথায়, সকলের সহযোগিতায় ইতিমধ্যেই বিধানসভার কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নির্দেশ কার্যকর হলে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হলে সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য ও বোধগম্য হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *