Breaking News

২৬ হাজার চাকরি বাতিলের আবহে ফের মৃত্যু এক শিক্ষিকার, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধে প্রাণ গেল পুরুলিয়ার ইপ্সিতার!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- চাকরির মেয়াদ শেষ হতে বাকি ছিল আর মাত্র এক মাস। তার আগেই মৃত্যু হল ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ মামলায় চাকরি বাতিল হওয়া ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকায় থাকা এক শিক্ষিকার। মৃতার নাম ইপ্সিতা দাস মহাপাত্র। তিনি পুরুলিয়া শহরের ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা এবং পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের গোলামারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষিকা ছিলেন।
চাকরি বাতিলের পর নতুন করে হওয়া পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি ইপ্সিতা। বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শনিবার সকালে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতেন। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার জন্যও চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার রাতে তাঁকে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবনের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। এই মৃত্যুর পর সরব হয়েছে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ (জেএসএসএএম)। সংগঠনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের জেরেই আরও এক শিক্ষিকার প্রাণ গেল। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ইপ্সিতাকে ক্রমশ ভেঙে দিয়েছিল। এর আগেও চাকরি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলেও দাবি সংগঠনের।
চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পুরুলিয়া কোর কমিটির সদস্য শুভাশিস পান বলেন, এখনও বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ হলেও যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার এখনও স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানায়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। গত বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে মামলার শুনানি হলেও কমিশনের আইনজীবীর আবেদনে তা পিছিয়ে যায়। আগামী আগস্টে মামলার পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *