প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টের সভাপতির পদ ছাড়লেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। মূলত আরজি করের ঘটনার পরেই বিচার চেয়ে এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এক ছাতার তলায় এসেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। সকলকে একত্রিত করার অন্যতম কারিগর ছিলেন অনিকেত। তৈরি করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’। সেই ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন অনিকেত মাহাতো।২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করা হয় মহিলা চিকিৎসককে। তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন সহপাঠীরা। সিবিআই তদন্তভার নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই মামলার কিনারা করে ফেলে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাবাসে সাজা পায় সিভিক ভলান্টিয়ার, হাসপাতালের অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জয় রায়। কিন্তু এই বিচারে সন্তুষ্ট হননি মৃতার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুরা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু বিষয় গোপনে রেখে, কাউকে আড়াল করে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে। আর তাই আজও তাঁদের আন্দোলন চলছে দেশের শীর্ষ আদালতে।এমতাবস্থায় অভয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ের খরচ সংগ্রহ করতে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট তৈরি করেছিল ‘অভয়া তহবিল।’ এই তহবিল নিযেই যত সমস্যার সূত্রপাত। আর্থিক তছরূপের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি ফ্রন্টের আন্দোলনের অভিমুখ বদলাচ্ছে বলেও অনেকে বলতে শুরু করেন। এবার এই ইস্যুতেই ইস্তফা দিলেন ফ্রন্টের সভাপতি অনিকেত মাহাতো। ইস্তফাপত্রে তিনি জানিয়েছেন, বারবার মতানৈক্য সত্ত্বেও তিনি যতটা সম্ভব আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি ও তাঁর সতীর্থ দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়াদের বদলি নিয়েও প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। ফ্রন্টের অসঙ্গতি নিয়ে বারবার নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। এই মুহূর্তে অনিকেতের মনে হয়েছে, ট্রাস্ট ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক না করে, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে যেভাবে ফ্রন্ট গঠন হয়েছে, তা অভয়ার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এসবের প্রতিবাদেই তিনি ইস্তফা দিলেন বলে জানিয়েছেন অনিকেত মাহাতো।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal