প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মামলাও হয়েছে বহু। জমা পড়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ রিপোর্ট। এবার বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারপতি স্পষ্ট বললেন, ‘বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বিষয়ে রাজ্যের উপর বিশেষ ভরসা নেই।’“কোর্ট রিপোর্টের ভারে ভরে গিয়েছে, কিন্তু কাজ কই?”, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং জলা ভরাট সংক্রান্ত মামলায় সোমবার এই ভাষাতেই রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা । তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, জলাভূমি সংলগ্ন ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজে রাজ্য যদি পরিকাঠামো বা পুলিশি সাহায্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে সেই কাজ করানো হবে। এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র, আবাসন এবং পরিবেশ মন্ত্রককে অবিলম্বে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি বলেন, “এইসব নির্মাণ নিয়ে আদালতের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে, কিন্তু গ্রাউন্ড লেভেলে কোনও কাজ হচ্ছে, এমন কোনও তথ্য নেই। কোর্ট রিপোর্টের ভারে ভরে গিয়েছে। আর রিপোর্ট নেব না। এবার ফিজিক্যাল কাজ হয়েছে দেখতে চাই।”রাজ্য না পারলে আধা সামরিক বাহিনীকে নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন বিচারপতি। সেই অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে মামলায় যুক্ত করার কথা বলেন বিচারপতি সিনহা।বিচারপতির প্রশ্ন, যে ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কথা বলা হয়েছিল সেগুলির কী হল? এর উত্তরে ‘ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র তরফে বলা হয়, বহুবার জেলাশাসককে বলেও কোনও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিচারপতি বলেন, “এইভাবে রাজ্যের থেকে সাহায্য না পাওয়া গেলে, প্যারামিলিটারি ফোর্সের জন্য অর্ডার দেব। এছাড়া আর কিছু করার নেই। কেন্দ্রীয় সরকারকে মামলায় যুক্ত করুন। আপনারা যদি বিক্ষোভ সামলাতে না পরেন তাহলে অন্য এজেন্সিকে ডাকতে হবে।” আগামী ১৬ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal