প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- মঙ্গলবার সকালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাজির হন ভবানীপুরে, যা মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দোল উৎসবে অংশ নেন তিনি। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রার্থনাই করব।’ পরে ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান ধরেন এবং ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তোলেন |সকাল থেকেই ভবানীপুর এলাকায় উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। সেখানে পৌঁছেই শুভেন্দু অধিকারী স্থানীয় লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে পুজো দেন। মন্দিরের ভেতরে তাঁকে ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ করতে দেখা যায়। এদিন তাঁর পরনে ছিল খাঁটি গেরুয়া পোশাক। মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়েই শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্যের নামে জয়ধ্বনি দেন তিনি।রাজনৈতিক মহলের মতে, দোলের সকালে ভবানীপুরকে বেছে নেওয়া শুভেন্দুর এক সুপরিকল্পিত কৌশল। বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে তাঁকে হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বিরোধী দলনেতা। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বেশ কিছুটা পথ পদযাত্রা করেন তিনি।প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হলে পরবর্তী সময়ে ভবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। তাই অনেকে মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কা দিতে চান বিরোধী দলনেতা। তাই প্রতি সপ্তাহে কম করে একবার ভবানীপুর বিধানসভায় বিজেপির নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতেও পারেন বলেও আলোচনা তুঙ্গে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal