নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- উনিশের লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে থাকা আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার এবার বিজেপি-র প্রার্থী হতে পারেন। রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তেও অনেক সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তেমন কোনও অঘটন না ঘটলে পদ্মফুল প্রতীকে বিধানসভা ভোটে লড়তে পারেন রাজেশ কুমার এমনটাই সূত্রের খবর |চাকরি জীবনে এই রাজ্যের পুলিশ বিভাগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন রাজেশ। অ্যাডিশনাল ডাইরেক্টর জেনারেল হিসেবে দীর্ঘদিন সামাল দিয়েছেন রাজ্যের সিআইডির দায়িত্ব। বেশ কিছুদিন ডেপুটেশনে থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থাতেও কাজ করেছেন। সিআইডির দায়িত্বে থাকার সময় তাঁর অন্যতম সাফল্য রাজ্যে শিশু পাচার চক্রের মাথাদের গ্রেপ্তার ধরা। এছাড়া আরও একটি বিষয় হল চাকরি জীবনে রাজেশ কুমার রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত রাজীব কুমার-এর ব্যাচমেট। যদিও রাজেশ কুমার বা সম্ভাব্য বিজেপির প্রার্থীদের সম্পর্কে এখনও রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে কোনও নেতা মুখ খুলতে চাননি।রাজেশের সঙ্গে দিল্লির বিজেপি নেতাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের পরিচয়। কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার গঠনের পর রাজেশ একদা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রাইভেট সেক্রেটারি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষমেশ সেই ইচ্ছাপূরণ হয়নি। সেই সময়ে তৃণমূল ইউপিএ-র শরিক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া মন্ত্রিসভায় ৬ জন প্রতি মন্ত্রী ছিল তৃণমূলের। তৎকালীন প্রতি মন্ত্রী সৌগত রায়ের প্রাইভেট সেক্রেটারি হয়েছিলেন রাজেশ। পরে মুকুল রায় মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন তিনি। কেন্দ্রে পালা বদলের পর তৎকালীন বিজেপির মন্ত্রী চন্দ্রেশ কুমার কাটৌচের ওএসডিও ছিলেন রাজেশ কুমার।২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের পর মুকুল রায়ের সুপারিশেই রাজেশ কুমারকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি-র এডিজি করা হয়েছিল। কিন্তু মুকুল রায় পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই নবান্নের সন্দেহের চোখে পড়েন। তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এহেন রাজেশের ভূমিকা ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটেও খুব তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে তাঁকে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal