প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন চলছে। বহু শ্রমিক এখনও তাঁদের প্রাপ্য মজুরি পাননি এই অভিযোগ নতুন নয়। এই পরিস্থিতিতেই সংসদীয় কমিটি কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে, যাতে বকেয়া টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হয়।এবার মনরেগার টাকা দেওয়া নিয়ে সুপারিশ করল সংসদীয় প্যানেল। তাঁদের বক্তব্য, মনরেগা প্রকল্পের কর্মীদের জন্য আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম অপশনাল রাখা হোক। আধার ভিত্তিক পেমেন্টের পাশাপাশি বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও যেন রাখা হয়, যাতে কর্মীরা তাদের নায্য পারিশ্রমিক পান।লোকসভায় ডিমান্ড ফর গ্রান্টস (২০২৫-২৬) রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা উচিত নয় কারণ এই ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা হলে যোগ্য উপভোক্তারা বাদ পড়তে পারেন। কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা, যিনি এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি বলেন যে বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে কর্মীদের অনৈতিকভাবে সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র আধার ও জব কার্ডের রেকর্ডে তথ্যগত ফারাক থাকার কারণে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মনরেগার কাজে পেমেন্টের ক্ষেত্রে আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবিপিএস প্রক্রিয়ায় সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাদের পারিশ্রমিক পাঠানো হয় |কমিটির তরফে সুপারিশ করা হয়েছে যে গ্রামোন্নয়ন দফতর যেন নিশ্চিত করে যে এবিপিএস অর্থাৎ আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম অপশনাল থাকে এবং বিকল্প পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকে। এতে কর্মীরা, যাদের আধার কার্ড নেই বা যাদের বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশনের সমস্যা হচ্ছে, তারাও নিজেদের কাজের পারিশ্রমিক পান।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের বিপুল পরিমাণ বকেয়া টাকা নিয়েও কেন্দ্রকে দ্রুত পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতে যে সময় মামলা চলেছে, সেই সময় বাদ দিয়ে বাকি সময়ের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৩ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কমিটির মতে, এই টাকা দ্রুত ছাড়া না হলে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হতে পারে এবং সাধারণ শ্রমিকদের উপর তার প্রভাব পড়বে |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal