প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা চলাকালীন বিচারকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট| এই ঘটনাকে আদালতের উপরই হামলা বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ – কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতেই তুলে দিতে হবে’।প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিয়েছে|এদিন সুপ্রিম কোর্টে মালদহের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত৷ সুপ্রিম কোর্ট ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন এই ঘটনার তদন্ত সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন অথবা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-র মাধ্যমে করানো হয়। আদালত আরও জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি মালদার জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, তাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্দেশ পড়ার সময় তিনি বলেন, ‘‘(এই ঘটনা) আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটা নির্লজ্জ প্রচেষ্টা’’৷ এর লক্ষ্য ছিল নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট মন্তব্য, ‘‘আমরা কারওকে জুডিশিয়াল অফিসারদের মনোবল ভাঙতে দেব না।’’মালদহের একটি গ্রামে SIR-এর কাজে নিযুক্ত ৭ বিচারককে বুধবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে ফেরানোর সময়ে গাড়ির উপর ইট পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ৭ জন বিচারকের মধ্যে মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের চিঠির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ওই বিচারকদের খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার পর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে তাঁদের মুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে সেখানেই শেষ নয়—ফেরার পথে বিচারকদের গাড়িতে পাথর ও বাঁশ দিয়ে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এটি প্রশাসনের ‘চরম ব্যর্থতা’। এমনকি মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলেও আদালত উল্লেখ করে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, এই ঘটনা ‘কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয়’এবং এটি কার্যত সুপ্রিম কোর্টের উপরই আক্রমণের সমান, কারণ বিচারকরা আদালতের নির্দেশেই কাজ করছিলেন। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তোলা হয়। আদালত ইঙ্গিত দেয়, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal