প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর পাশেই ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শাহকে প্রণামও করেন বিরোধী দলনেতা। এদিকে, শুভেন্দুর মনোনয়ন কর্মসূচির সময় তৃণমূলের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর।তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। দেওয়া হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগানও। পালটা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। স্লোগান পালটা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি একেবারে অগ্নিগর্ভের আকার নেয়। কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। এই অবস্থায় ছাদ খোলা গাড়ি থেকে নেমে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নেমে কনভয়ের অন্য একটি গাড়িতে চাপতে হয় তাঁকে। আর এই উত্তেজনার মধ্যেই সার্ভে বিল্ডিংয়ে শাহকে পাশে নিয়েই মনোনয়ন দাখিল করেন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল যে ওই এলাকায় ঝামেলা হতে পারে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে সেই রোড শো পৌঁছতেই তৃণমূলের কর্মীরা স্লোগান তুলতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা। দুই শিবিরের তীব্র স্লোগান ও বাদানুবাদ শেষমেশ হাতাহাতিতে গড়ায়। ব্যাপারটা এখানেই থেমে ছিল না। সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে তারস্বরে দলীয় প্রচার সঙ্গীত বাজাতে শুরু করে তৃণমূল বলে অভিযোগ। তাতেও উত্তেজনা বাড়ে। বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেও তা ঠেকানো যায়নি। বরং পুলিশের সামনেই দু’পক্ষের মারপিট শুরু হয়ে যায়।
বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “এটা পুলিশ দেখুক। নির্বাচন কমিশন দেখুক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর রোড শো। সেখানে এই অসভ্যতা। পায়ে পা দিয়ে ঝগড়ার চেষ্টা। ইচ্ছা করে অশান্তি পাকানো। এই হচ্ছে তৃণমূল। এই অনাচার এবার বাংলা থেকেই বিদেয় হবেই। গোটা ভারতে কোথাও এই নোংরামি হয় না”। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। বিজেপিই উস্কানি দিয়েছে।হাজারা মোড়ের সভায় শাহ বলেন, ‘ভোটের আগে ১৫ দিন আমি পশ্চিমবঙ্গেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অনেক সুযোগ পাব। আজ আমাদের প্রার্থীদের, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য আমি এসেছি।’ শাহ জানান, তাঁর কথাতেই ভবানীপুর থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইছিলেন। আমি শুভেন্দুদাকে বললাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়। মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে। আর ওঁর তো রেকর্ড আছেই। গত ভোটে মমতা পশ্চিমবঙ্গে সরকার তো গড়েছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এবার মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেনই, ভবানীপুরেও হারবেন।’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal