দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- ভোট পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শুধু তা-ই নয়, কর্মজীবনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজও করেছেন। নাম বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে তালিকায় নতুন নাম তোলা, সব দায়িত্বই পালন করেছেন তিনি। সেই প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিনের নামই নেই এসআইআর-এ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তা বিবেচনার জন্য গিয়েছিল বিচারকদের কাছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে যাওয়া এ বার ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন মতিন।মহম্মদ মতিন ১৯৭৪ সালে জলপাইগুড়িতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কে.জি.ও পদে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর একে একে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। বিডিও থেকে শুরু করে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট-সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদে আসীন ছিলেন মতিন। সামলিয়েছিলেন বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের দায়িত্বও। মতিন জানিয়েছেন, কমিশন শুনানিতে ডাকার পর চাকরির পরিচয়পত্র, পুরনো ভোটার তালিকা, পাসপোর্ট ও পেনশন সংক্রান্ত নথি জমা দেন। তারপরও তাঁর নাম বিচারাধীন থাকে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম বাদ দেওয়া হয়। এতে তিনি অপমানিত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছেন মতিন।মতিনের বড় ছেলে মহম্মদ মোহিত পেশায় শিক্ষক। তিনি জানান বলেন, “এই বয়সে বাবা-মা ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না,এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” স্থানীয় সূত্রে দাবি, তুরুক ময়না গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথের মোট ২৪৬ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। এর মধ্যে ২০৬ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘এটাই তো চাওয়া হয়েছিল! নির্বাচন কমিশনের কাজ যত বেশি সম্ভব মানুষের নাম তোলা। এখন দেখছি, ওঁদের কাজ নাম বাদ দেওয়া। এই কমিশন বিজেপির হয়ে গিয়েছে।’ অন্যদিকে বিজেপি নেতা শান্তরূপ দে বলেন, ওঁর উচিত, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করা। তা হলে আর সমস্যা থাকবে না। তৃণমূল অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে।’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal