প্রসেনজিৎ ধর:-নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই আরও জমিয়ে তুললেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে তুললেন গুরুতর অভিযোগ। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পঞ্চায়েতের সদস্য। কিন্তু সেই পদে ইস্তফা না দিয়ে অন্য দলের টিকিটের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হতে পারে। সেইসঙ্গে শুভেন্দুর আরও খোঁচা, ”আমরা এনিয়ে অভিযোগ করব না। কারণ, আমি ওকে রাজনৈতিকভাবে হারাব। প্রার্থীপদ বাতিল হলে সেটা করতে পারব না।” সূত্রের খবর, বিষয়টি কমিশনের নজরে আসতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে পবিত্র করের বিরুদ্ধে।শুভেন্দু বলেন,তিনি বলেন, ‘‘আমি স্ক্রুটিনির সময় কোনও অবজেকশন দিইনি। আমার অবজেকশন দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমি নির্বাচনে হারাব। আমি অবজেকশন জানালে ওর (পবিত্র কর) প্রার্থিপদ চলে যায়।’’ শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘একটা লোক বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত সদস্য। পদত্যাগ না করেই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী! নির্বাচন কমিশনকে আমি প্রশ্ন করতে চাই, কোন আইনে আছে ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক একই সঙ্গে দু’টি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?’’প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হন পবিত্র। কিন্তু ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন তিনি। ওইদিনই নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রার্থী করা হয় তাঁকে। শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘উনি বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের পদ্ম ফুলের পঞ্চায়েত মেম্বার। আর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রতীকে লড়াই করছেন। আমি জানি উনি পদত্যাগ করেননি। আমি অবজেকশন দিলেই প্রার্থিপদ কিন্তু খারিজ হয়ে যাবে।’’ বুধবার রাতে বিরোধী দলনেতার এমন অভিযোগের পরেই পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।এফআইআর দায়ের করা প্রসঙ্গে জবাব পেতে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্রকে ফোন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত নই। তবে আমি যে পদক্ষেপ করব তা আইনমাফিক হবে।’’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal