দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- অ্যাডজুডিকেশন অর্থাৎ বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে| সেই প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম | তার আগেও দু’দফায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নাম একত্রিত করলে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১ লক্ষের কাছাকাছি| অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা যে ২৭ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালে| সেই ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজও শেষ| ১৩ এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে কাজ| পোর্টাল গঠনও হয়ে গিয়েছে| কিন্তু, সেই পদ্ধতিও তো সময় সাপেক্ষ| এবার তাই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী ভোটারদের এবারের মতো ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যেরা|সোমবার শুনানির শুরুতে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় বহু ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিশন’ হিসেবে রয়েছে। তিনি আর্জি জানান, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে যত দ্রুত সম্ভব এই মামলাগুলির শুনানি শেষ করে তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হোক। কল্যাণের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ সুপ্রিম কোর্টের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।”কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আবেদন করলেই ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এর অনুমতি দিই, তবে যাঁদের নাম বর্তমানে ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ৯ এপ্রিল বা তার ঠিক পরেই যদি কোনও আপিলের নিষ্পত্তি হয়, তবেই সেই ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকে – যা আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।উভয়পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, আদালতকে এই বিষয়ে ভাবার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের দুই পক্ষের যুক্তিই মাথায় রাখতে হবে।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal