Breaking News

‘ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো’, ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যু চাইলেন আরামবাগের ৬ বাসিন্দা!

প্রসেনজিৎ ধর :-রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক কোন চরম পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ| হুগলি জেলার আরামবাগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম কাটা যাওয়ায় ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এর আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। আর সেই ভয় থেকেই সোমবার দুপুরে আরামবাগ মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র আবেদন জানালেন ছ’জন বাসিন্দা। তাঁদের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।সোমবার আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আরামবাগ এসডিও-র কাছে যান। সারা গায়ে তাঁদের যাবতীয় তথ্য সেঁটে, পদযাত্রা করে এসডিও অফিসে যান। তার মধ্যে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকাও আছেন। আবার কারও যাবতীয় তথ্য আছে। কিন্তু নাম বাতিল।জানা গিয়েছে, আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০৬ জনের নাম বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে তাইবুন্নেসা বেগম নামে একজন প্রাক্তন শিক্ষিকাও রয়েছেন। তিনি ২০ বছর গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে ছিলেন। মোট ৩৪ বছর সরকারি চাকরি করেছেন। তাঁর স্বামী আরামবাগ গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁদের নিজেদের পেনশনের কাগজপত্র রয়েছে। পাসপোর্ট আছে। এর পাশাপাশি যাবতীয় তথ্য আছে।এদিন মহকুমাশাসকের কাছে রাষ্ট্রপতিকে লেখা একটি আবেদনপত্র জমা দেন তাইবুন্নেসারা। আবেদন জমা দেওয়ার পর তাঁরা বলেন, “সব নথি থাকার পরও নাম বাদ দিয়েছেন। এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠালে কী হবে? ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো। সেই জন্য এসডিও-র মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছি।” তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী। এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে BJP-র আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন দফতরের কাজ। আর এটা রাজ্য সরকারের গাফিলতি। রাজ্যের কাছে ১০০০ জন চাওয়া হয়েছিল। দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এআই-র সাহায্য নিতে হয়েছে। আর যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে রয়েছে, সঠিক পরিচয়পত্র থাকলে এবার ভোট দিতে না পারলেও পরেরবার পারবেন। একটি রাজনৈতিক দলের চক্রান্তে নাটক চলছে।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *