প্রসেনজিৎ ধর :- মেদিনীপুরের মাটি গদ্দারদের, মীর জাফরদের সমর্থন করে না। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার এভাবেই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব মেদিনীপুর অধিকারী পরিবারের ‘গড়’ বলে পরিচিত। সেখানেই দাঁড়িয়েই অভিষেক একের পর এক তোপ দাগলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করা শুভেন্দুকে। বৃহস্পতিবার ভগবানপুর ও পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে যান অভিষেক। তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে অভিষেক বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, এ বার আমার জেদ, ৪ তারিখ সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করতে হবে না। বেলা একটার পর থেকে ডিজে বাজবে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুরে। যাঁরা যে ভাষা বোঝেন, অভিষেক সে ভাষায় জবাব দিতে জানে।’ভগবানগোলায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আজ এখানকার মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, তা থেকে স্পষ্ট যে মেদিনীপুরের মাটি গদ্দার, বিশ্বাসঘাতক বা মীর জাফরদের সমর্থন করে না। এই মাটি নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে না।’’ এর পরে অভিষেক আরও বলেন, ‘‘এই মাটি সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, ক্ষুদিরাম বোস, মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি। ১৯৪২ সালে এই মাটি পৃথক তাম্রলিপ্ত সরকার গঠন করে সারা দেশের সামনে উদাহরণ গড়েছিল।’’অভিষেক এখানেই থামেননি। আরও সুর চড়িয়ে তিনি জানান, তাঁর সরকারের উন্নয়নের রেকর্ড তিনি দিতে রাজি। কিন্তু বিজেপি কি তা করবে, প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির কি ক্ষমতা আছে? ভগবানপুরের বিধায়ক কে? কাঁথির সাংসদ কে? তাঁদের রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে বলুন।’’ প্রসঙ্গত, কাঁথির সাংসদ হলেন সৌমেন্দু অধিকারী। অভিষেকের প্রশ্ন, ভগবানগোলা এবং কাঁথি কি এ বার দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে?২১-এর নির্বাচনে ভগবানপুর আসনটি জিতেছিল বিজেপি, অন্য দিকে পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। তবে ২০২৪ সালে সব হিসাব উল্টে যায়। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ১৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। গতবারের ফল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে তৃণমূলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal