দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে এনআরসি এবং আধার কার্ডের ‘নাম কাটা’র ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিনহাটার জনসভা থেকে তিনি বিজেপি সরকারকে ‘ভীরু ও কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করেন। তৃণমূল নেত্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। নিশ্চয় ভোটাধিকার ফিরে পাবেন। আমি খুব খুশি। আমার করা মামলায় এই রায়। বিচারব্যবস্থার উপর গর্বিত। মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ, ধন্যবাদ। আজকে আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়।” যাঁদের নাম ভোটের দু’দিন আগে তালিকায় যুক্ত হবে, সেই ভোটারদের যেন কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সেই দিকটিও দলের নেতাকর্মীদের দেখতে বলেছেন মমতা। তিনি বলেন, “যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের ভোটার স্লিপ তৈরির বিষয়টি দেখতে হবে নেতৃত্বকে। যেন ভোটের আগে তা সবার কাছে পৌঁছে যায়।” রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত তিনি সফল হতে দেবেন না।তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “এরা ভীরু-কাপুরুষের দল, মেঘের আড়াল থেকে লড়াই করে। সামনাসামনি লড়াই করার ক্ষমতা এদের নেই। আমার মুখোমুখি দাঁড়াবার সাহস থাকলে বসুন, তারপর বাংলার দিকে তাকাবেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভোট লুট করতে বাইরে থেকে লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে আসছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে তিনি তোপ দাগেন, “দিল্লির সরকারকে বেচে খাচ্ছ। কখনও ধর্মের নামে, কখনও ভোটের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছ।”এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দিনহাটায় পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “দিনহাটায় ১৮ হাজার নাম কেটেছে। আমি জানি এই সংখ্যাটা আসলে ৩০ থেকে ৩২ হাজার। ভয় পাবেন না, বাকি যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের নাম আমি তুলে ছাড়ব।” নাম না থাকলে দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকির পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, “কালকেই বলেছেন যাঁর নাম থাকবে না, তাঁকে তাড়াব। তুমি তাড়াবার কে? রাজবংশীদের এনআরসি-র নোটিস পাঠায়, মা-বোনেদের সম্মান হরণ করে। এই দুরাচারী বিজেপি সরকারকে ভেঙে ফেলুন।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal