প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগের যে পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন,তাতে বড় ধাক্কা দিল কলকাতা হাইকোর্ট| শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ কমিশনের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের সাফ পর্যবেক্ষণ, অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও বেতনের নিরিখে তাঁদের কেন বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে পাঠানো হচ্ছে, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন।বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছেন, সহকারী অধ্যাপকদের বেতন এবং পদের কথা মাথায় রেখে যদি তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবেই তাঁদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। কী কারণে সহকারী অধ্যাপকদের বুথে পাঠানো হচ্ছে, সেই ব্যাপারে বার বার কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সদুত্তর দিতে পারেনি। তাই কমিশনের বিজ্ঞপ্তি খারিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।কমিশনের ওই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কলেজ শিক্ষিকা রূপা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই মামলায় কমিশনের কৌঁসুলি অনামিকা পান্ডে বৃহস্পতিবার যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ২০১০ সালের নির্দেশিকার পরিবর্তে ২০২৩ সালে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। নির্বাচনী আইনের ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী,কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই কাজে নিয়োগ করতে পারেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক।কমিশনের এই যুক্তি শুনে ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি রাও। তিনি বলেছিলেন, ‘এই ধারা অনুযায়ী বিচারক ও বিচারপতিদেরও ভোটের কাজে নিযুক্ত করুক কমিশন! এটা মজার ব্যাপার নয়। প্রতিবারই কমিশন নিজেদের নির্দেশিকা বদল করছে। কিন্তু কোনও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে না!’মামলাকারীর আইনজীবীরও বক্তব্য ছিল, কলেজ শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নির্বাচনী কাজে ‘রিজ়ার্ভ’ থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের বা রাজ্য সরকারের কর্মীদের ওই কাজে নিয়োগ করুক কমিশন। পাল্টা কমিশনের বক্তব্য ছিল, ভোটের আর কয়েক দিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে আদালত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কমিশনের এই যুক্তি শুনল না কলকাতা হাইকোর্ট।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal