প্রসেনজিৎ ধর :-প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে মিটে গেলেও, ভোট শেষ হতেই অশান্তি দেখা দিয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। সাইদাবাদ এলাকার ১ নম্বর বুথের কাছে কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। খবর পেয়ে রাতেই ময়দানে নামলেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী| আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।শনিবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানেই কৃষ্ণ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা হয়েছে। ঘটনায় আহত কৃষ্ণবাবু সহ একই পরিবারের তিনজন। তাঁদের বেধড়ক মারধর ও বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ওই বাড়ির এক মহিলা সদস্য দিয়া ঘোষ বলেন, “শনিবার রাত দশটা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলাম। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের দেখে কুমন্তব্য করেন এবং গায়ে হাত দেয়। এরপর বাড়ি ফিরে আসার কিছু ক্ষণ পর বাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায়,মারধর করে। এই ঘটনায় তিন জন জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।”ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে অধীর বলেন, “ভোটগ্রহণের দিন আমার সঙ্গে শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় করেছিল। এই এলাকার বুথে ধীরে ধীরে ভোট হচ্ছিল। আমি কমিশনকে জানাই। সঙ্গে-সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নেয়। যেহেতু অত্যধিক গরম ছিল সেই কারণে আমি একটি মন্দিরে বসেছিলাম। ওরা সেই সময় আমায় জল মিষ্টির কথা বলেন। আমি বারণ করি। তারপর ফ্যান চালিয়ে দেন। এইটুকুই। তাই তাদের উপর আক্রমণ হয়েছে। ওঁরা আমার দলের সমর্থক সেটা আমি বলব না। আমি জানিও না কোন দলের সমর্থক। এরা তো সাধারণ মানুষ।”ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে জেলায়। কংগ্রেসের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে ‘পাপাই ঘোষ’ নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, পাপাই ও তাঁর অনুগামীরা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছেন। ভোটের আগে থেকেই এলাকায় সম্প্রীতি নষ্ট এবং ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টও আক্রান্ত হয়েছে। চিঠিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, রবিবার সকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সমস্ত কিছুর দায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উপর বর্তাবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal