প্রসেনজিৎ ধর :-ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণইস্তফার ছবি সামনে আসছে। কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া-সহ একাধিক পুরসভার পর এবার উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভাতেও বড় ধাক্কা খেল শাসকদল। সোমবার একযোগে ইস্তফা দিলেন ১৫ জন কাউন্সিলর। পদত্যাগ করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষও।
২৩টি ওয়ার্ডের উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় ইতিমধ্যেই ৩ জন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। ফলে কার্যত ২০ জন কাউন্সিলর সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন সোমবার ইস্তফা জমা দেন। বাকি ৫ জন বর্তমানে বিভিন্ন কাজে পুরসভার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁরাও শীঘ্রই পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ। এর ফলে কার্যত প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায়।
ইস্তফার কারণ হিসেবে নির্বাচনী পরাজয়ের নৈতিক দায়ের কথাই তুলে ধরেছেন চেয়ারম্যান। মলয় ঘোষ বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে জনমত গিয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি চেয়ার আঁকড়ে থাকা উচিত না। নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মনে করি আরও উন্নতি হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পুরসভাগুলিতে তৃণমূলের ভিত নড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভায় ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরদের গণইস্তফা দেখা গিয়েছে। হালিশহর, ভাটপাড়া এবং গারুলিয়া পুরসভায় পদত্যাগের পর এবার উত্তর ব্যারাকপুরেও একই ছবি সামনে এল। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিনের জনবিচ্ছিন্নতা, ক্ষোভ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, সংগঠনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগে রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। গত সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেখানে মাটি আঁকড়ে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি। এবার উত্তর শহরতলির একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমের জনপ্রতিনিধিদেরও বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। তার মধ্যেই উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় এই গণইস্তফা নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াল শাসক শিবিরের উপর।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal