প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ২ দিন পরই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ। সেই সঙ্গে ওই বৈঠকে ছিলেন দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান ও স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল মাতিন সহ ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক। গত ১৫ বছরে তৃণমূল শাসনে, কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাননি বিজেপির বিধায়করা। কিন্তু এবার সেই পথে না গিয়ে উল্টোপথে হাঁটল বিজেপি সরকার। যে-যে জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক, সেই সেই জেলার সব বিধায়কদেরই ডাকা হল প্রশাসনিক বৈঠকে। আর মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এই সব মিটিংয়ে প্রশাসনিক স্বার্থে বিশেষ বিশেষ সাংসদদেরও ডাকা হবে। এদিন মিটিংয়ে উপস্থিত হয়ে কাকলি জানান, এটা প্রশাসনিক বৈঠক। এটা দলীয় বিষয় নয়। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দিয়েেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমরা তো গত পাঁচ বছর কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকই পাইনি। তবে আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, আমাদের বৈঠকে বিরোধীদের সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে।”এদিন বৈঠকে বারাসতের বিরোধী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার- সহ বসিরহাটের বিধায়কদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করে তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই মানুষ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুফল পান। ভোটের সময়ে রাজনৈতিক কচকচানি চলতেই পারে, কিন্তু বছরের বাকি সময়টা আমরা ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করব।”মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, নতুন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমরা আপাতত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দিচ্ছি। সদ্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কীভাবে কাজ এগোবে, সরকার কীভাবে রাজ্য চালাতে চায় এবং আমাদের সংকল্পপত্রের মূল ভাবনা কী – সেই বার্তা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সেই কারণেই জেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়কে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal