Breaking News

আরজি কর থেকে দুর্নীতি, আই-প্যাকের ‘নৈতিক অভিঘাত’ উল্লেখ করে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার!

নিজস্ব সংবাদদাতা :-রাজ্য রাজনীতিতে অব্যাহত দলবদলের জল্পনা এবং শাসক-বিরোধী সমীকরণের দ্রুত পটপরিবর্তন। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের দীর্ঘদিনের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে একটি বিস্তারিত চিঠি দিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।এর আগেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন কাকলি। পরের দিনই দল তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে ওই পদে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের সঙ্গে কাকলির দূরত্ব আরও বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে গতকাল কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ। দলীয় স্তরে মৌখিক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওই বৈঠকে উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কাকলি তাঁকে বলেছেন, এতদিনে স্বাধীনতা পেলাম। এরপরই বুধবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তিনি তৃণমূলের মহিলা সংগঠন বঙ্গজননীর দায়িত্ব-সহ নানা পদে ছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই সংঘাত অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে তাঁর ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। গত রবিবারই তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এলাকায় দলের চরম বিপর্যয়ের ও খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি পদ ছাড়ছেন।তবে পদত্যাগের পাশাপাশি দলের ভোট কৌশলী বা পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। সংস্থার কাজের ধরন এবং জেলার পুরনো নেতাদের ওপর তাঁদের খবরদারি নিয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ গোপন রাখেননি সাংসদ। কিন্তু কাকলির সেই পদত্যাগের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাতেই সংঘাতের পারদ চরমে পৌঁছায়। তাঁর ক্ষোভ প্রশমনের কোনও চেষ্টা না করেই, ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরের দিনই দল তা দ্রুত গ্রহণ করে নেয়। শুধু তাই নয়, তড়িঘড়ি তাপস চট্টোপাধ্যায়কে বারাসত সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই পদক্ষেপে কাকলি স্পষ্ট বুঝতে পারেন যে সংগঠনে তাঁর গুরুত্ব আর আগের মতো নেই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *