প্রসেনজিৎ ধর :-রাজ্যে পালাবদলের পরে গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন (GTA)-এর মাধ্যমে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এবার সিবিআই তদন্তের পথ খুলল। শুক্রবার নবান্নে পাহাড় সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলায় আর রাজ্য সরকার বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”মামলাটা সুপ্রিম কোর্টে স্টে নিয়ে আছে। আমি মুখ্যসচিবকে বলেছি রাজ্য সরকার এখান থেকে বেরিয়ে আসবে। তাহলে সিবিআই তদন্ত হতে পারবে।”জিটিএ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে এর আগে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। প্রায় ৪০০ জন শিক্ষককে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কলকাতা হাই কোর্ট এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেখানে সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘এই মামলা থেকে আমরা বেরিয়ে যাব। তাহলে হাই কোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কার্যকর হবে।’’নবান্নের বৈঠকে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং পাহাড়ের স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকেরা। অনেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন। জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তাও বৈঠকে যোগ দেন। ছিলেন পাহাড়ের নবনির্বাচিত তিন বিধায়ক। পুরসভা স্তরে ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ, পাহাড় এবং চা বাগানকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি চালু করার বিষয়ে শুক্রবারের বৈঠক থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড় নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে শুভেন্দুদের। চার পুরসভায় আপাতত ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত স্বল্পমেয়াদি কিছু লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। পাহাড়ে দার্জিলিং বাদে বাকি তিন পুরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি না-থাকায় মহকুমাশাসকদের প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটনের মতো ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে সর্বত্র। আগের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমরা চাই পাহাড়ের মানুষ নাগরিক পরিষেবা পান। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) পাহাড়ের জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষেও ১৭০ কোটি টাকা পাহাড়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই টাকা ব্যবহার করা যায়নি। আমরা জিটিএ-র প্রধান সচিব শামা পারভিনকে বলেছি, দ্রুততার সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে।’’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal