নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :-তিলজলার বেআইনি নির্মাণ ঘিরে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে আপাতত ব্রেক টানল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলির ক্ষেত্রে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে মামলাকারীদের বক্তব্য শোনার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পরবর্তী বুলডোজার অভিযান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি পেলেন মামলাকারীরা।কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল এদিন এই মামলার শুনানিতে কলকাতা পুরসভাকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার যে সব বাড়ি বা নির্মাণের বিরুদ্ধে বেআইনি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার সমস্ত বাড়ির মালিক এবং সেখানে বসবাসকারী বাসিন্দা অর্থাৎ ভাড়াটিয়াদেরও বাধ্যতামূলকভাবে নোটিস পাঠাতে হবে পুর কর্তৃপক্ষকে।আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্রেফ নোটিস পাঠিয়েই পুরসভার দায়িত্ব শেষ হবে না। ওই নোটিসের প্রেক্ষিতে বাড়ির মালিক এবং বাসিন্দারা যাতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারেন, অর্থাৎ আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের উপযুক্ত সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে কলকাতা পুরসভাকে।
বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের নির্দেশ, আজ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নোটিস পাঠানো এবং বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি পুরসভাকে সম্পন্ন করতে হবে। ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১২ তারিখ। তপসিয়ার একটি বহুতল ভবনের দোতলায় অবস্থিত একটি চামড়ার কারখানায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের এবং গুরুতর জখম হন আরও তিন জন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, তিলজলার ওই বহুতলটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পুরসভার অনুমোদন বা কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই ভবনটি গড়ে ওঠে এবং সেখানে সম্পূর্ণ বেআইনি উপায়ে একটি চামড়ার কারখানা চালানো হচ্ছিল। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী ওই বহুতলটি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।জনতার বিক্ষোভের মাঝেই বেআইনি ওই বহুতলের বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এর পরেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগীরা। হাইকোর্টে মামলা দায়ের হওয়ার পর প্রাথমিক শুনানি শেষে ভাঙার কাজের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন বিচারপতি রায়চৌধুরী। এবার সেই মামলার প্রেক্ষিতেই আদালত জানিয়ে দিল, আইনি জট পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত আপাতত তিলজলায় আর বুলডোজার চলবে না।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal