প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-দলবিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। মূলত দলের বিরুদ্ধেই বিধানভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিকে, বহিষ্কৃত হতেই কার্যত দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন দুই বিধায়ক।বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” ‘এবিপি আনন্দ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত বলেন, “সই-কাণ্ডের বিষয়টি আমি এবং সন্দীপন বিধানসভার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলাম। অধ্যক্ষ কোনও দলের প্রতিনিধি নন, তিনি বিধানসভার অভিভাবক।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে ফলতা বিধানসভা থেকে বিপুল ভোট পান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত। ভবিষ্যতে নিজের ভূমিকার কথা জানিয়ে, ঋতব্রত জানান, তিনি বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমান সরকারকে অবহিত করে তদন্ত চাইবেন।
এদিকে তৃণমূলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। যেখানে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কুণাল ঘোষ লিখছেন, ‘এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা।’পরিষদীয় ক্ষেত্রে এই দু’জনের ভূমিকা কী হবে? নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসাবে থাকবেন। রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে দলের হুইপ বা নির্দেশ মানতে তাঁরা বাধ্য থাকবেন না।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal