প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন অনেকে। অনেকে আবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। আবার দলবিরোধী কাজ করার জন্য বরখাস্ত করা হচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এমন ডামাডোল পরিস্থিতির জন্য দলের একাংশ ও বিজেপিকে দুষলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | সোমবার ফেসবুক লাইভ করে মমতা অভিযোগ করেছেন বিজেপি টাকা দিয়ে দল ভাঙাচ্ছে। আবার এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশকে । সঙ্গে দলের কয়েকজন নেতাকে বিশ্বাসঘাতকের মতো কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।তবে মমতার দাবি, তৃণমূলকে ভাঙা অত সোজা নয়। কিছু নেতা শিবির পাল্টাতে পারেন। তবে তৃণমূলে কর্মীরাই সম্পদ। তৃণমূলকে আবার শক্তিশালী করবেন নেত্রী নিজে। সোমবার ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, ‘‘আমাকে চার জন এমএলএ (বিধায়ক) কমপ্লেন (অভিযোগ) করে গিয়েছেন। তাঁদের পুলিশ দিয়ে বলানো হচ্ছে, আপনি যদি মিটিংয়ে যান অস্ত্র আইন, গাঁজা কেস দিয়ে ধরা হবে।’’ তৃণমূলনেত্রীর সংযোজন, ‘‘এটা কোন গণতন্ত্রের উদাহরণ? অত্যাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে রাজ্যে।’’ উল্লেখ্য, শনিবার কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের ৮০ জনের বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন।শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশের বিরুদ্ধে মমতার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে নেতা-বিধায়ক ভাঙানোর কাজ প্রাথমিক ভাবে করেছে তারাই। পুলিশ বলে দিচ্ছে কোন বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তার পর তৃণমূলের সেই বিধায়ককে ফোন করা হচ্ছে বিজেপি কার্যালয় থেকে। সোমবারই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। চিঠি দিয়ে ওই দু’জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই আবহে নাম-না করে ঋতব্রতকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন মমতা। যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁরা দলকে ভালোবাসেন না বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কথায় অনেকেই দল ছাড়ছেন। দল ভাঙার খেলা খেলছেন। কিন্তু তাঁদের বলে দিচ্ছি, আমিও বড় খেলোয়াড়। আপনাদের ওয়েট করতে হবে।’ হকার উচ্ছেদ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলা নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘হেলমেট না থাকলে স্পট ডেথ হয়ে যেত। এখন বিজেপির সভাপতি বলছেন, বেঁচে তো আছে। আপনাদের তো আমরা দুধে-ভাতে রেখেছিলাম।’
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal